মনে আছে কি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিবির নেতা এবং কুরআনে হাফেজ হাফিজুর রহমানের কথা? এই মেধাবী ছাত্রনেতার অকাল মৃত্যু আজও দাগ কেটে আছে বহু মানুষের মনে।
২০১৬ সালে রাবির অধ্যাপক ড. এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে হাফিজুরকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কিন্তু অভিযোগ প্রমাণের আগেই তাকে রিমান্ডে অমানবিক নির্যাতন এবং কারাগারে অবহেলার শিকার হতে হয়। থ্যালাসেমিয়া রোগী হাফিজুর নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজনীয়তা ছিল, যা জেল কর্তৃপক্ষ অবহেলা করে তাকে সময়মতো দিতে ব্যর্থ হয়।
চিকিৎসার অবহেলায় মৃত্যু
হাফিজুরের বড় ভাই হাবিবুর রহমান জানান, থ্যালাসেমিয়ার কারণে প্রতি তিন মাস পর পর হাফিজুরকে রক্ত দিতে হতো। ডা. মাইনুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেওয়ার কথা ছিল এবং এই বিষয়টি জেল কর্তৃপক্ষকে সময়মতো জানানো হয়েছিল। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তার শারীরিক অবস্থা দিন দিন খারাপ হতে থাকে। চরম অবহেলার ফলাফল হিসেবে ২০১৬ সালের ১৯ মে এই তরুণ নেতা মৃত্যুবরণ করেন।
পরিচয় ও অবদান
হাফিজুর রহমান ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং রাজশাহী মহানগরীর ১৯নং ওয়ার্ড ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক। ছাত্র জীবনে তিনি ধর্মীয় শিক্ষা ও নেতৃত্বে অসামান্য অবদান রেখেছিলেন। একজন কুরআনে হাফেজ হিসেবে তার প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ছিল অপরিসীম।
প্রশ্ন রয়ে যায়
হাফিজুরের মৃত্যুতে তার পরিবার, সহপাঠী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের মনে আজও প্রশ্ন রয়ে গেছে। তার মতো একজন মেধাবী তরুণকে অভিযোগ প্রমাণের আগেই এমন নির্যাতন ও অবহেলার শিকার হতে হলো কেন? তার চিকিৎসার অধিকার কেন হরণ করা হলো?
হাফিজুরের এই মর্মান্তিক মৃত্যু আমাদের সিস্টেমের মানবাধিকারের চর্চা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছে। তার পরিবার আজও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়।


