নারী উদ্যোক্তা তনির স্বামী শাহাদাৎ হোসাইন আর নেই

বাংলাদেশের প্রখ্যাত নারী উদ্যোক্তা ও সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সার রোবাইয়াত ফাতিমা তনির স্বামী শাহাদাৎ হোসাইন আর বেঁচে নেই। ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (১৫ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় ভোর ৩টা ৩ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তনি নিজেই তার ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে এই হৃদয়বিদারক খবরটি জানিয়েছেন। তিনি লেখেন, “সে আর নেই। ব্যাংকক সময় রাত ৩.০৩ মিনিটে আমাকে সারাজীবনের মতো একা করে চলে গেছে।”

কিছুদিন আগে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন শাহাদাৎ হোসাইন। চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর এবং পরে উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ব্যাংককে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে, তনি ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে লেখেন, “জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছি। আমি কোনোভাবেই তাকে হারাতে চাই না। অনেক চেষ্টার পর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ব্যাংকক নিয়ে এসেছি। বাকি সব আল্লাহর ইচ্ছা।”

তনির ফেসবুক পোস্টে স্বামীর সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছিলেন। কিন্তু চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শাহাদাৎ হোসাইনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

শাহাদাৎ হোসাইন: জীবন ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক
শাহাদাৎ হোসাইন ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। তার এবং তনির সম্পর্ক বিভিন্ন সময় সমালোচনার মুখে পড়লেও তনি সবকিছুকে সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন। বয়সের ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন ওঠা সত্ত্বেও তনি ও শাহাদাৎ ভালোবাসার শক্তিতে একে অপরের প্রতি অটল থেকেছেন।

শাহাদাৎ হোসাইন ছিলেন তনির দ্বিতীয় স্বামী। তনির প্রথম বিয়ে বিচ্ছেদের পর, পরিবারের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও তিনি শাহাদাৎকে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে পরিবার এবং তাদের চারপাশের মানুষ এই সম্পর্ক মেনে নেন।

সন্তান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
তনির এই শোকাবহ সময়ে তার সবচেয়ে বড় সমর্থন হয়ে দাঁড়িয়েছে তার সন্তান। তিনি তার সন্তানকে সামনে রেখে জীবন এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। এক আবেগঘন পোস্টে তনি লেখেন, “আমি জানি, এই পথ সহজ নয়। কিন্তু আমার সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে আমাকে শক্ত থাকতে হবে। শাহাদাৎ চেয়েছিল আমাদের সন্তান একটি সুন্দর জীবন পাক। আমি সেটাই নিশ্চিত করব।”

তনির এই শোকাবহ সময়ের প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষ সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। তার সাহসিকতা এবং জীবনসংগ্রামের গল্প অনেককে অনুপ্রাণিত করেছে। একজন প্রিয় মানুষকে হারানোর শোক সত্ত্বেও তনি যে মনের জোর দেখাচ্ছেন, তা সবার কাছে একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।