কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এক সমন্বয়কের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ফরিদা ইয়াসমিন নামে এক নারী। শনিবার দুপুরে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের আব্দুর রাজ্জাক মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ফরিদা ইয়াসমিন দাবি করেন, কুমারখালী উপজেলা শাখার বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব ও কুমারখালী পৌর ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান খান আলী তার কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পুলিশ দিয়ে তার ছেলে মেজবাউর হক হৃদয়কে গ্রেপ্তার করে নাশকতার মামলায় ফাঁসানো হয়। তিনি এই চাঁদাবাজি ও মামলা হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে কুষ্টিয়া জেলা ও কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
লিখিত বক্তব্যে ফরিদা ইয়াসমিন বলেন:
“প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুরা, আসসালামু আলাইকুম।
আমি ফরিদা ইয়াসমিন, বাসা – কুমারখালী। আমি একজন সিঙ্গেল মাদার। আমার সন্তান নিয়ে ভাইদের বাসায় বসবাস করি। আমার ছেলের নাম মেজবাউর হক হৃদয়। ছোটবেলায় আমি আমার বাবার বাড়িতে ফিরে আসি এবং তখন থেকেই একটি প্রি-ক্যাডেট স্কুলে চাকরি করে সন্তানের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে যাচ্ছি। বর্তমানে আমার ছেলে কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের ছাত্র এবং পাশাপাশি কুমারখালী এম.এন. পাইলট হাইস্কুল সংলগ্ন পার্কের ক্যাফেতে চাকরি করে।
আমার ছেলে আসাদুজ্জামান আলী, পিতা – আঃ সামাদ পাখি, সাং – এলঙ্গী, থানা – কুমারখালী, জেলা – কুষ্টিয়ার সঙ্গে স্কুলজীবন থেকেই পরিচিত। ক্যাফের মালিক আমার ছেলের বিশ্বস্ততার কারণে ক্যাফের কার্যক্রম ও টাকা-পয়সার দায়িত্ব তাকে দেন। এই বিষয়টি জানতে পেরে এক মাস আগে আলী আমার ছেলের কাছে এক লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। আমার ছেলে টাকা দিতে অস্বীকার করলে পুলিশ দিয়ে ভয় দেখানো হয় এবং নানা রকম হুমকি দেয়।
আমরা চাঁদার টাকা না দেওয়ায় গত ৯ তারিখে কয়েকজন পুলিশসহ একজন যুবক আমাদের বাসায় আসে এবং আমার ছেলেকে থানায় নিয়ে যেতে চায়। কারণ জানতে চাইলে জানানো হয়, কিছুক্ষণ পর সে ফিরে আসবে। কিন্তু সে আর ফিরে না আসায় আমি আলীকে ফোন করি। তখন তিনি বলেন, ‘আমার এলাকায় চুরি হয়েছে, তাই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হৃদয়কে থানায় নিয়ে গেছে। সকালে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে।’
কিন্তু সকালে তাকে ছাড়া হয়নি। থানায় গিয়ে দেখি, আলী নিজেও সেখানে উপস্থিত। আমি আবার জানতে চাইলে সে বলে, ‘কোর্টে যান, হৃদয়ের বিরুদ্ধে একটি ছোট মামলা হয়েছে, জামিন করিয়ে আনবেন।’ আমি কোর্টে গিয়ে জানতে পারি, আমার ছেলের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা দেওয়া হয়েছে। এরপর আলীর সঙ্গে দেখা হলে আমি জিজ্ঞেস করি, ‘আমার ছেলের সঙ্গে এমনটা কেন করলে?’ তখন সে বলে, ‘চাঁদার টাকা চেয়েছিলাম, দাওনি, এখন বুঝো।’
এলাকাবাসীর প্রতিবাদ ও পরবর্তী ঘটনা
উল্লেখ্য, কুমারখালী উপজেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান খান আলী ও তার পিতা আব্দুস সামাদ খান পাখি, হাসিনা সরকার পতনের পর থেকেই উপজেলা জুড়ে ব্যাপক চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্যসহ সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছে। এর প্রতিবাদে গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি, বুধবার আলী ও তার পিতার বাড়িতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ভাঙচুর চালায়।
ফরিদা ইয়াসমিন প্রশাসনের কাছে তার ছেলের মুক্তি এবং চাঁদাবাজদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।



