বাংলাদেশের ছোটপর্দার অভিনেত্রী ও সংগীতশিল্পী জিনাত সানু স্বাগতার বিরুদ্ধে সম্প্রতি একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে, যেখানে তার বক্তব্য প্রত্যাহারের পাশাপাশি প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, স্বাগতা তার স্বামী হাসান আজাদের সঙ্গে বিয়ের আগে এক বছর লিভ টুগেদার করার কথা স্বীকার করেছেন। তার এমন বক্তব্যকে সমাজ ও ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে অভিহিত করা হয়েছে। লিগ্যাল নোটিশটি পাঠানো হয়েছে আরিফুল খবির নামে এক ব্যক্তির পক্ষে, যার আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টের মুহম্মদ মেছবাহ উদ্দিন চৌধুরী।
নোটিশের বিবরণ অনুযায়ী:
- স্বাগতার বক্তব্য ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে।
- লিভ টুগেদার করার মতো হারাম কাজকে স্বাগতা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছেন, যা সমাজে অনৈতিকতার মাত্রা বাড়াতে পারে।
- তার এমন মন্তব্যে সামাজিক পরিবেশ বিশৃঙ্খলার দিকে যেতে পারে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, অভিনেত্রীকে সাত দিনের মধ্যে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী স্বাগতা জানান, বিয়ের আগে এক বছর লিভ টুগেদার করেছিলেন। তার ভাষায়, “আমাদের সমাজ পরিবর্তন হচ্ছে। ডিভোর্স নরমালাইজ হচ্ছে, লিভ টুগেদারও নরমালাইজ হবে। ইনশাল্লাহ।” তার মতে, শুরুতে বিষয়টি পরিবার মেনে নিতে কিছুটা সময় নিলেও পরবর্তীতে এটি গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে। এই বক্তব্য প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই সমালোচনার মুখে পড়েন স্বাগতা।
স্বাগতার মন্তব্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই তার বক্তব্যকে সমর্থন করলেও, ধর্মীয় এবং সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে একাংশ তা নিন্দা করেছে। নেটিজেনদের মধ্যে অনেকে তার ব্যক্তিগত জীবনকে কেন্দ্র করে নেতিবাচক মন্তব্যও করেছেন।
উল্লেখ্য, স্বাগতা চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি সংগীতশিল্পী হাসান আজাদের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তার স্বামী লন্ডন প্রবাসী এবং সংগীত জগতের সঙ্গে যুক্ত। বিয়ের আগে তারা এক বছর একত্রে বসবাস করেছেন বলে স্বাগতা জানান।
এই প্রসঙ্গে স্বাগতার কোনো মন্তব্য এখনো গণমাধ্যমে আসেনি। তবে তার সাক্ষাৎকারে তিনি সমাজের পরিবর্তন এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার পক্ষে কথা বলেছেন।
এই ঘটনাটি সমাজের রক্ষণশীল ও প্রগতিশীল চিন্তার সংঘাতকে স্পষ্ট করে তুলেছে। ব্যক্তিগত জীবনের সিদ্ধান্ত ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির দ্বন্দ্বে স্বাগতা একজন প্রতিনিধিত্বকারী চরিত্র হিসেবে উঠে এসেছেন। তিনি ক্ষমা চাইবেন নাকি তার বক্তব্যে অনড় থাকবেন, সেটি দেখার বিষয়।



