রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ চার বছর নির্ধারণ এবং একাধিকবারের জন্য পদে থাকার সীমা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে সংবিধান সংস্কার কমিশন। নতুন এই প্রস্তাব অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ দুইবার একই পদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
বুধবার (১৫ জানুয়ারি) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই প্রস্তাবনা জমা দেয় কমিশন। গণতান্ত্রিক কাঠামোকে আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যে এ সুপারিশগুলো প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া
প্রস্তাব অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ হবে চার বছর। তিনি ইলেকটোরাল কলেজের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন। ইলেকটোরাল কলেজ গঠিত হবে নিম্নোক্ত উপায়ে:
- আইনসভার উভয় কক্ষের সদস্যদের ভোট
- প্রতিটি জেলা সমন্বয় কাউন্সিলের সম্মিলিত ভোট
- সিটি কর্পোরেশন সমন্বয় কাউন্সিলের সম্মিলিত ভোট
এছাড়া, রাষ্ট্রপতি অভিশংসনের জন্য রাষ্ট্রদ্রোহ, গুরুতর অসদাচরণ বা সংবিধান লঙ্ঘনের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ও দায়িত্ব
প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদও চার বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। তাকে আইনসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের সমর্থনের ভিত্তিতে মনোনীত করা হবে।
- প্রধানমন্ত্রী পদে তিনিও দুইবারের বেশি অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না।
- আস্থা ভোটে পরাজিত হলে কিংবা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে তাকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে।
- প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রধানের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
গণভোট পুনর্বহালের সুপারিশ
গণভোটের বিধান পুনর্বহালের প্রস্তাব করে কমিশন জানিয়েছে, সংবিধান সংশোধনের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের সরাসরি মতামত নেওয়া জরুরি। গণভোটের মাধ্যমে গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
সংস্কারের সম্ভাব্য প্রভাব
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করার এই প্রস্তাব গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ এবং কার্যকর করে তুলবে। পাশাপাশি, ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ এবং দায়িত্বশীলতার মান নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
এই সুপারিশ কার্যকর হলে দেশ পরিচালনায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আসবে এবং নাগরিকদের মধ্যে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রতি আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।



