বাঙালি কবি কাজী নজরুল ইসলাম কারাগার থেকে পূর্ণচন্দ্র দাসের মুক্তি উপলক্ষে কালীপদ রায়চৌধুরীর অনুরোধে ভাঙার গানের বই থেকে ‘পূর্ণ-অভিনন্দন’ কবিতাটি রচনা করেন। কাজী নজরুল ইসলাম এই কবিতায় প্রথম “জয় বাংলা” শব্দটি ব্যবহার করেন। জয় বাংলা স্লোগানের নামটি এসেছে কাজী নজরুল ইসলামের “পুরা অভিনন্দন” (1922) কবিতা থেকে ।
“জয় বাংলা”—এই দুটি শব্দ শুধু একটি স্লোগান নয়, এটি বাঙালির মুক্তির চেতনার প্রতীক, স্বাধীনতার মূলমন্ত্র। ১৯৭১ সালে যখন এই দেশ স্বাধীনতার জন্য লড়ছিল, তখন “জয় বাংলা” শুধু একটি দলের মুখে ছিল না, এটি ছিল প্রতিটি মুক্তিকামী বাঙালির হৃদয়ের ধ্বনি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই স্লোগান একটি নির্দিষ্ট দলের মালিকানায় চলে গেছে, যা কখনোই কাঙ্ক্ষিত ছিল না।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় “জয় বাংলা” ছিল আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতীক। এটি শুধু একটি দলের জন্য নয়, পুরো জাতির জন্য ছিল গৌরবের বিষয়। যুদ্ধের ময়দানে এই স্লোগান দিয়েই মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছেন, প্রাণ দিয়েছেন, বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছেন।
এই স্লোগান প্রথম ব্যবহার হয় ১৯৪০-এর দশকে, বিশেষ করে বাঙালির অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে। পরে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে এটি হয়ে ওঠে সর্বজনীন মুক্তির স্লোগান।
একটি স্লোগান, যা পুরো জাতির মুক্তির জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল, সেটি যদি একটি নির্দিষ্ট দলের সম্পত্তি হয়ে যায়, তাহলে সেটি পুরো জাতির ঐতিহ্যকে সংকুচিত করে ফেলে। এটি শুধু রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, নৈতিক ও ঐতিহাসিক দিক থেকেও ভুল।
আজ “জয় বাংলা” একদলীয় হয়ে গেছে, যা বেদনাদায়ক। এটি আসলে একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার নয়, বরং একটি জাতীয় ঐতিহ্য। তাই, আমাদের উচিত এই স্লোগানকে দলীয় গণ্ডি থেকে বের করে আবারও পুরো জাতির করে তোলা।
আমরা যদি সত্যিকারের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী হই, তাহলে “জয় বাংলা”কে কোনো নির্দিষ্ট দলের হাত থেকে ফিরিয়ে এনে সর্বস্তরের মানুষের চেতনায় প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
“জয় বাংলা” শুধু একটি দলের নয়, এটি বাঙালি জাতির, মুক্তিযোদ্ধাদের, শহীদদের, শ্রমিক-কৃষকের, তরুণ প্রজন্মের, এবং প্রতিটি মানুষের। এটি যেন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
ইনকিলাব জিন্দাবাদ ! জয় বাংলা !



