নতুন নির্দেশনায় পরিবর্তন
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার সম্প্রতি ভারতের জন্য ব্যান্ডউইথ ট্রানজিট সুবিধা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেছে। সিদ্ধান্তটি মূলত ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে ইন্টারনেট সেবার সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে গৃহীত একটি পূর্ব প্রস্তাবের বিপরীত।
প্রস্তাবের পটভূমি
- ভারতের আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে স্থলপথে ব্যান্ডউইথ ট্রানজিটের জন্য বাংলাদেশে দুটি কোম্পানি—সামিট কমিউনিকেশনস ও ফাইবার অ্যাট হোম—ভারতের ভারতী এয়ারটেল-এর সঙ্গে মিলে আবেদন করেছিল।
- এই ট্রানজিট ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা চালু হওয়ার কথা ছিল।
সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের কারণ
- অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্বেগ:
নতুন সরকার আশঙ্কা করছে, এই সংযোগ কার্যকর হলে বাংলাদেশের আঞ্চলিক ডিজিটাল হাব হিসেবে ভূমিকা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। - বাংলাদেশের লাভ কম:
টেরেস্ট্রিয়াল কেবল স্থাপনের মাধ্যমে ভারতের সুবিধা হলেও বাংলাদেশের আর্থিক বা কৌশলগত কোনো উল্লেখযোগ্য লাভ নিশ্চিত ছিল না। - রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা:
- বিটিআরসির সূত্র মতে, সামিট কমিউনিকেশনস ও ফাইবার অ্যাট হোম আগের সরকারের সাথে ঘনিষ্ঠ।
- সামিট কমিউনিকেশন্সের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফরিদ খান ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের সাথে যুক্ত বলে উল্লেখ রয়েছে।
আওয়ামী লীগের সময়ের প্রাথমিক অনুমোদন
শেখ হাসিনার আমলে প্রাথমিকভাবে এই প্রকল্পের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। সেসময় সামিট কমিউনিকেশনস এবং অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে মিলে ভারতের জন্য এই ব্যান্ডউইথ সুবিধা চালুর আলোচনা চলছিল।
ভবিষ্যৎ প্রভাব
- এই সিদ্ধান্ত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ডিজিটাল সম্প্রসারণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
- বাংলাদেশের ডিজিটাল ইকোসিস্টেমকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক সমীকরণে প্রভাব পড়বে।
- রাজনৈতিক ও কৌশলগত কারণে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের এই বিষয়ে নতুন আলোচনা হতে পারে।
এভাবে পরিস্থিতি বাংলাদেশের নীতিগত পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে এবং আঞ্চলিক যোগাযোগে প্রভাব ফেলতে পারে।



